top of page

গোলাপি শহরের আম্বার ফোর্ট‌

ঐতিহ্য ও প্রাসাদে আবদ্ধ একটি শহর। হ্যাঁ, জয়পুর কমনীয়তা এবং বীরত্বের একটি আইকনিক উদাহরণ। এই রাজকীয় শহরটি সর্বদাই মধ্যযুগীয় সময় থেকে স্থাপত্য এবং শহরের উন্নয়নের ধারনা বিনিময়ের কেন্দ্রস্থল। থরের প্রান্তে অবস্থিত, এই সুন্দর শহরটি আরাবল্লী পাহাড়ের সীমানায় অবস্থিত। শহরে প্রবেশ করলে আপনি বুঝতে পারবেন যে রাজপুত রয়্যালসের এই শহরের সবকিছুই অনেকটা মহাকাব্যিক উপন্যাসের গল্পের মতো।

ঐতিহাসিক সম্মুখভাগ, যুদ্ধের কাহিনী, এবং কিংবদন্তি দুর্গ এবং প্রাসাদ রাজস্থানকে অন্বেষণের জন্য সবচেয়ে রঙিন এবং সারগ্রাহী রাজ্যগুলির একটিতে অবদান রাখে। শহরের শান্তি ও নিস্তব্ধতা, এবং গ্রামীণ গ্রামের বন্ধুত্বপূর্ণ স্পন্দন, অসামান্য স্থাপত্য ক্লান্ত ভ্রমণকারীদের উপর একটি আশ্চর্যজনক প্রভাব ফেলে। সবুজ সবুজে ভরা বাগান, সুস্বাদু খাবারে ভরা রাস্তা, এবং বাইলেনগুলি হস্তশিল্প ও গয়না কেনার জন্য একটি উপযুক্ত জায়গা অফার করে। যুগ যুগ ধরে নিজস্ব ঐতিহ্য ও উজ্জ্বল দীপ্ত বজায় রেখে সকলের মন জয় করে চলেছে রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর। ঐতিহাসিক অতীতের শিকড় এখনও বর্তমান। আধুনিকীকরণের সঙ্গে ভারতের মূল ধারা কিন্তু এখনও চোখে পড়বে ছত্রে ছত্রে। ভারতের প্রথম সুপরিকল্পিত শহর এই জয়পুর। বিখ্যাত মহারাজা সওয়াই মান সিং তৈরি করেছিলেন এই গোলাপি শহর। যদি এই শহর তৈরির অনেক পরে এটি গোলাপি শহর নামে পরিচিতি অর্জন করে। দুর্গের ভিতর প্রচুর মন্দির রয়েছে। রয়েছে নিখুঁত করে সাজানো বাগান ১৭২৭ সালে রাজা সওয়াই মান সিং সিদ্ধান্ত নেন আম্বার ফোর্ট থেকে একটি অংশ স্থানান্তরিত করে শহর গড়ে তোলার। সেই ভাবেই সুপরিকল্পিত ভাবে তৈরি হয়েছিল জয়পুর, যা আজকের রাজস্থানের রাজধানী। তবে শহরের প্রধান স্থানগুলি-রাস্তা, চত্বর, প্রাসাদ এবং সীমানাগুলির দুর্গ গঠনের জন্য সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পনা কৌশল তৈরি হতে ৪ বছর সময় লেগেছিল। ১৮৭৬ সালে প্রিন্স অফ ওয়েলস এবং রানি ভিক্টোরিয়া ভারত সফরে আসার কথা ছিল। তাঁদেরকে স্বাগত জানাতে ‘পাধারো মাহেরে দেশ’ – এর সারমর্ম জীবন্ত করে তুলতে মহারাজা গোটা শহরকে টেরাকোটা গোলাপি রঙে সাজিয়ে তুলেছিলেন। আজও জয়পুরের ঐতিহাসিক গেট ও স্কোয়ারগুলিতে আতিথেয়তার রঙ হিসেবে গোলাপি রঙ ধারণ করে থাকে। জয়পুরের ইতিহাসে নিজেকে বুনতে পারদর্শী এই গোলাপি শহর। তবে জয়পুর শহর তৈরি হওয়ার অনেক আগে থেকে এখানে রয়েছে আম্বার ফোর্ট। রাজপুত স্থাপত্যের নিদর্শন আজও বয়ে চলেছে এই দুর্গটি। এই দুর্গের প্রতিটি কোণায় লুকিয়ে রয়েছে ইতিহাস। দেওয়ান-ই-খাসের চমৎকার কারুকার্য‌, সুখ নিবাসের সূক্ষ্ম চন্দন কাঠের কাজ, কাঁচের কারুকার্য‌ বিশিষ্ট শিষ মহল- সব কিছুই যেন নজর কাড়তে বাধ্য এই দুর্গে। যুগ যুগ ধরে নিজস্ব ঐতিহ্য ও উজ্জ্বল দীপ্ত বজায় রেখে সকলের মন জয় করে চলেছে রাজস্থানের রাজধানী জয়পুর

নিঁখুত কারুকার্য এবং ঐতিহ্যমণ্ডিত জয়পুরের বিখ্যাত অম্বর দুর্গ, যা কি না আমের দুর্গ নামেও পরিচিত, ইতিহাসের এমনই এক সাক্ষী। দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথে এই দুর্গ থেকে অন্যত্র পালানোর ব্যবস্থাও ছিল। গোলাপি শহর জয়পুরের ১১ কিলোমিটার উত্তরে, আরাবল্লী পর্বতের ‘চিল কা টিলা’ অংশের উপর এই পর্বত তৈরি করা হয়। ৯৬৭ খ্রীস্টাব্দে চন্দ্র বংশের রাজা এলান সিংহ প্রথমদুর্গের স্থাপনা শুরু করেন। তার পর পুরনো স্থাপনার উপর নতুন করে নির্মাণ শুরু করেন রাজা মান সিংহ। মান সিংহের ছেলে প্রথম জয় সিংহের হাত হয়ে ১৭২৭ সালে সাওয়াই জয় সিংহ রাজধানী অম্বর থেকে জয়পুরে স্থানান্তরিত করার পর দুর্গকে পূর্ণতা দেওয়ার কাজে হাত দেন। অম্বা মাতার নামে অম্বর দুর্গের নামকরণ হয়েছে বলে বিশ্বাস স্থানীয়দের। আবার শিবের অন্য নাম অম্বিকেশ্বর অথবা অযোধ্যার রাজা অম্বরীশের নামেও দুর্গের নামকরণ হয়ে থাকতে পারে বলেও বিতর্ক রয়েছে।

দুর্গের ভিতর প্রচুর মন্দির রয়েছে। রয়েছে নিখুঁত করে সাজানো বাগান। জয়পুর গেলে দুর্গেই এক দিন কেটে যায়। দুর্গের ঠিক পাশেই রয়েছে মাওতা হ্রদ। রাজস্থানের প্রাচীন লোককথায় শোনা যায়, পাহাড়ের ঢালে যে লিঙ্গ রয়েছে, তা হ্রদের জলে সম্পূর্ণ ডুবে গেলে অবির্ভূত হবেন অম্বা মাতা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ওই হ্রদের ধারে দীর্ঘ সময় কাটাতে দেখা যায় পর্যটকদের। হ্রদের ঠিক মাঝখানে রয়েছে ‘কেশর কিয়ারি বাগ’বাগান। দুর্গের ভিতর রয়েছে শিশমহল। হাজারের বেশি রঙিন কাচ দিয়ে তৈরি এই শিশমহল। তাতে রোদ পড়লে চোখে ধাঁধা লেগে যায়।

শিশমহলের মধ্যে একটি স্তম্ভে এমন ভাবে নকশা খোদাই করা রয়েছে যে, এক এক দিক থেকে নকশা এক এক রকমের মনে হয় । কখনও দুই প্রজাপতির মাঝে একটি ফুল, কখনও মাছের লেজ, কখনও পদ্ম কখনও সিংহের লেজে লুকিয়ে থাকা গোখরো আবার কখনও হাতির শূঁড় বলে ভ্রম হয়। অম্বর দুর্গের মোট চারটি ভাগ রয়েছে। প্রত্যেক দিকেই বিশালাকার ফটক রয়েছে। তার মাথায় লেখা রয়েছে দুর্গের ইতিহাস। সূর্যস্তম্ভের দিক হয়ে উদ্যানে যাওয়া যায়। একসময় সৈন্যরা সেখানে কুচকাওয়াজ করতেন।

দুর্গের সর্বত্র দেওয়ালে সূক্ষ্ম নকশা এবং কারুকার্য চোখে পড়ে। দুর্গের মূল ফটকটিও রাজকীয় কারুকার্য সমৃদ্ধ। অম্বর দুর্গের মধ্যে গোপন সুড়ঙ্গও রয়েছে। তার মধ্যে দিয়ে হেঁটে জয়গড় দুর্গে পৌঁছনো যায়। ২ কিলোমিটার লম্বা এই সুড়ঙ্গ। শত্রুপক্ষ হামলা করলে এই সুড়ঙ্গ দিয়েই পালানোর ব্যবস্থা ছিল। ইতিহাস, ধর্ম, পর্যটন, সংস্কৃতি থেকে ঐতিহ্য, ভারতের গোলাপী শহরটিতে অনেক কিছু দেওয়ার আছে, আপনার শুধু প্রয়োজন একটি খোলা হৃদয়। জাতিগত রন্ধনপ্রণালীর স্বাদ নিতে শহরের ইতিহাস অন্বেষণ থেকে, এটি একটি মহাকাব্য জয়রাইড।



Comentarios


bottom of page